ধসে পড়ছে পদ্মার সিসি ব্লক, হুমকির মুখে লালপুরের তীরবর্তী মানুষ

0 ১৩৩

লালপুর (নাটোর) সংবাদদাতা

নাটোরের লালপুর উপজেলায় পদ্মা নদীতে পানি বাড়ার ফলে নদীর তীর রক্ষায় নির্মিত সিসি ব্লক ৩০০ মিটার ধসে পড়েছে। এখন নদীর পাড়েও ধস শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে নুরুল্লাপুর পয়েন্টে ব্লক ধস লক্ষ্য করা গেছে। ভাঙ্গন রোধে স্থানীয়রা প্রাথমিক ভাবে বাঁশের বেড়া দিয়ে তার মধ্যে কাশফুর ও কচুরিপানা দিয়ে ভর্তিকরে দিচ্ছেন। তবে এতে ভাঙ্গন রোধে কতটুকু কার্যকর হবে তা বলা যাচ্ছে না। এদিকে পদ্মায় দ্রুত পানি বাড়ার ফলে আতঙ্কে রয়েছে পদ্মার তীরবর্তী গ্রামের মানুষ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পালিদেহা, গৌরীপুর, নুরুল্লাপুর, লক্ষীপুর, তিলকপুর, লালপুর, মোমিনপুর, বিলমাড়িয়া প্রভৃতি গ্রাম পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। এ গ্রামগুলো রক্ষার্থে উপজেলার তিলকপুর থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত ২২৬.০

৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সি.সি. ব্লক দিয়ে ৮.৫৮৫ কি: মি: দৈর্ঘ্য বাঁধ নির্মাণ করা

হয়েছে। নুরুল্লাপুর গ্রাম এলাকায় নির্মিত সিসি ব্লকে গত বর্ষা মৌসুমে ফাটলের সৃষ্টি হয়। এ সময় ভাঙ্গন এলাকায় বালির বস্তা ফেলে ঝুঁকিমুক্ত করা হলেও চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে বালির বস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সি.সি. ব্লক ধসেও যায়। এ সময় নদীর তীর রক্ষা বাঁধের কয়েকশ গজ এলাকা ধসে পড়ে ভাঙ্গন দেখা দেয়। আতঙ্কিত গ্রামবাসী বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়ে তড়িৎ হস্তক্ষেপের আবেদন করেন।

সিসি ব্লকের ধস শুরু হওয়ায় উপজেলার নদী তীরবর্তী নুরুল্লাপুর, লক্ষীপুর, তিলকপুর ও নবীনগর গ্রাম হুমকির মুখে পড়ছে। আর এজন্য এলাকার লোকজন নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, নদীর তলদেশ থেকে বালি উত্তোলনের ফলেই সিসি ব্লকের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে সিসি ব্লক নদীতে ধসে পড়ছে।

স্থানীয় রাকিব, রেজাউল, জিয়াউল সরদার বলেন, নদীর তীর রক্ষা গত কয়েক বছর আগে নির্মিত এই ব্লক পানি বাড়ার সাথে সাথে ধসে গেছে। তিন দিন আগে ধসের পরিমান ১০০ গজ ছিল কিন্তু এখন তা প্রায় ৩০০ গজ ছাড়িয়ে গেছে। পানি কমতে থাকলে তা বিকট আকার ধারন করবে বলে মনে করছেন তারা।


নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, পদ্মানদীর লালপুর অংশে নদীর তীর রক্ষা সিসি ব্লকের ৩০০ মিটার ধসে গেছে।এটা বড় ধরনের কোনো সমস্যা নয়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নদীর তীরে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তার জানা নেই।

এ ব্যাপারে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জেলা প্রশাসনসহ আমি এ বিষয়ে তৎপর। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালি ও ভরাট উত্তোলন আমরা যে কোন মূল্যে বন্ধ করবো। সিসি ব্লক যাতে ধ্বসে না পড়ে তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

মুক্ত  প্রভাত/রাশিদুল

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.