দিনে দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি
মুক্ত অনলাইন ডেস্ক
ঘন্টা পাঁচেক আগেই শিশুটির জন্ম হয়েছিল। সেই নবজাতককে কোলে নিয়ে আদর করছিলেন মা। হঠাৎ করেই অজ্ঞাত এক মহিলা শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদরের ছলে হারিয়ে যান।
হঠাৎ করে মহিলাসহ শিশুটি যেন সবার চোখের সামনে থেকে গায়েব হয়ে যায়। গত বুধবারের ঘটনা এটি। আজ শনিবার। অর্থাৎ ঘটনার পর ৩ দিন পার হয়ে গেছে। আজও শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারেনি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।
শিশু চুরির এই ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত বুধবার (১০অক্টোবর)। সকালে হাসপাতালের গাইনী বিভাগ থেকে শিশুটি চুরি হয়। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
বিষয়টি তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, প্রসূতি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার শামিম ও সেবা তত্ববধায়ক মোসলেমা বেগম। তাদের ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাদের জন্য সন্দেহভাজন এক লিফট আপারেটরকে আটক করেছে পুলিশ।
হাসপাতাল ও থানা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাড়িরঝাড়া গ্রামের পরশ চন্দ্রের স্ত্রী সুধারানী মঙ্গলবার সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসে। তাকে ১১ নং প্রসূতি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
সেখানে ওই রাতে সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন সুধা রানী। বুধবার সকালে নবজাতককে নিয়ে আত্মীয় স্বজনরা বারান্দায় এলে একজন অজ্ঞাত মহিলা শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করতে থাকে। এক পর্যায়ে মহিলাটি বাচ্চাটিকে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। পরশ চন্দ্র তার আত্মীয় স্বজন বিষয়টি তখনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান। হাসপাতালের পরিচালক অভিযোগটি কোতয়ালী থানায় নথীভুক্ত করার জন্য পাঠিয়ে দেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ হাসপাতালে এসে সিসি ক্যমেরার ভিডিও ফুটেজ ও লিফট অপারেটর কাইয়ুমকে আটক করে। রমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় রায় জানান, আমরা অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। শিশুটি উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।
রংপুর মেট্রো পলিটন কোতয়ালী থানার ওসি রেজাউল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই আমরা তদন্তে নেমেছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন লিফট অপারেটরকে আটক করা হয়েছে। উপজলোর বিভিন্ন ক্লিনিকে অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে নবজাতককে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
মুক্ত প্রভাত/রাশিদুল