মহাসড়কের পাশে অন্তসত্তা গৃহবধূর লাশ
মুক্ত অনলাইন ডেস্ক
গভীর রাতে ৫ মাসের অন্তসত্ত্বা এক গৃহবধূকে হত্যা করে খুনীরা মহাসড়কের পাশে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। সীতাকুণ্ডে ওই ঘটনা ঘটেছে।
নিহতের বাড়িতে গিয়ে মা হোসনে আরা বেগমের কাছ থেকে জানা যায়, ১নং সৈয়দপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়ার বটতল পূর্বলালা নগর গ্রামের জহিরুল ইসলাম বাবুলের মেঝ মেয়ে ৫ মাসের অন্তসত্ত্বা ছাবিনা ইয়াছমিন নিগার (২০) গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় পৌরসদরে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়।
কিন্তু মেয়ে ঘরে ফিরে না আসায় মেয়ের মা তার বান্ধবীকে ফোন করলে জানায় নিগার সেখানে য়ায়নি। পরে ভূঁইয়ার বটতল রাস্তার মাথার সামান্য উত্তরে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে এক তরুনীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত অন্তসত্ত্বা তরুণীর লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
পুলিশের ধারণা মেয়েটিকে শ্বাসরোধ করে গভীর রাতে ফেলে রেখে গেছে। এদিকে এলাকাবাসীরও ধারণা কয়েকজন মিলে হয়ত তাকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে রেখে যায়।
তবে পুলিশ আরো ধারণা করছে, মেয়েটির সঙ্গে বিয়ের আগে হয়ত কারো সম্পর্ক ছিল। সে কারণে আগের প্রেমিক প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। নিহত নিগার সীতাকুণ্ড (বিশ্ববিদ্যালয়) কলেজের বিএ ১ম বর্ষের ছাত্রী। মিরশ্বরাই উপজেলাধীন বালিয়াদি গ্রামের অধিবাসী ও সীতাকুণ্ড পৌরসভাস্থ পন্থিছিলা নুরানী কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষক মোঃ সরওয়ার উদ্দিন রাসেলের (২৭) সঙ্গে ৬ মাস আগে ইসলামী শরীয়ত মতে বিবাহ হয়।
নিগার বিয়ের পর থেকে বাপের বাড়ি থাকতেন। কিছুদিন পর আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে তাকে তুলে দেওয়ার কথা ছিল বলে নিগারের মা জানান। নিগারের স্বামী রাসেলের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমার স্ত্রী আমাকে যে কোন জায়গায় গেলে বলে যেত। কিন্তু সেদিন আমাকে বলে যায়নি।
আমি মসজিদে মুসল্লীদের নিয়ে ফজরের নামাজ শেষ করে আমার মোবাইলে দেখি একটি ম্যাসেজ। আমি ম্যাসেজটি ওপেন করে দেখি নিগারের মোবাইল থেকে পাঠানো লেখা ‘সরি সোনা আমি তোমার থাকতে পারলাম না, আমাকে ক্ষমা করে দিও’। ম্যাসেজ পাঠানোর সময় ছিল গভীর রাত ৩.৩০ থেকে ৩.৩৫ মিনিট। নিহতের মা হোসনে আরা বেগম বলেন, আমার মেয়ের হত্যাকারীকে যেন পুলিশ খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করে। তিনি হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি করেন।
এ ব্যাপারে সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা রানী শাহ জানান, হত্যকারী কোনভাবেই আমাদের কাছ থেকে বাঁচতে পারবে না।আমরা তাকে খুঁজে বের করে আদালতে সোপর্দ করবোই।
মুক্ত প্রভাত/রাশিদুল